ইরাক-ইসরায়েল যুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থানে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৫ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ায় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইরাকের সমর্থনে জোরালো কোনো ভূমিকা না থাকায় জনমনে গভীর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তব চিত্র
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই মুসলিম উম্মাহর সংকটে সংহতি প্রকাশ করে আসছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুসলিম নেতা হিসেবে সরাসরি ইরাকের পক্ষ নেবেন—এমনটাই ছিল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের মারপ্যাঁচে সরকারের অবস্থানকে অনেকেই 'রহস্যজনক নীরবতা' হিসেবে দেখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, "মুসলিম হিসেবে তারেক রহমানের উচিত ছিল আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইরাকের পাশে দাঁড়ানো।"
কেন এই কৌশলী অবস্থান?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে এক কঠিন কূটনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর পেছনে কয়েকটি মূল কারণ থাকতে পারে:
অর্থনৈতিক নির্ভরতা: ২০২৬ সালের এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আমেরিকার বাজারের গুরুত্ব অপরিসীম। সরাসরি আমেরিকার বিপক্ষে অবস্থান নিলে দেশের রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পররাষ্ট্রনীতি: 'সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়'—এই নীতি বজায় রাখতে গিয়ে সরকার হয়তো কোনো পক্ষ নিতে চাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক চাপ: নবনির্বাচিত সরকার হিসেবে বিশ্বশক্তির সাথে এখনই কোনো দ্বন্দ্বে জড়ানোকে কৌশলগতভাবে ভুল মনে করছেন অনেকে।
বিস্ফোরক জনমত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চলছে। সাধারণ নাগরিকদের মতে, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে যদি ইরাকের মতো 'মজলুম' রাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ায়, তবে তা হবে একটি নৈতিক পরাজয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টিকে পুঁজি করে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপসংহার
ইরাক-ইসরায়েল ইস্যুটি এখন আর কেবল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতির একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি শেষ পর্যন্ত জনমতের চাপে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেন, নাকি জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে এই 'নিরপেক্ষতা' বজায় রাখবেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ